Skip to main contentSkip to navigation
Case Studies

Autoroutine: সৈয়দপুরের ১৬০ শিক্ষকের একটি স্কুলে রুটিন আর প্রক্সি ক্লাস যেভাবে নিজে থেকেই চলে

T

TrustByte Team

২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

3 মিনিট পড়া3 ভিউ
Autoroutine: সৈয়দপুরের ১৬০ শিক্ষকের একটি স্কুলে রুটিন আর প্রক্সি ক্লাস যেভাবে নিজে থেকেই চলে

সকাল ৭টা। একজন শিক্ষক ফোন করে জানালেন, শরীর খারাপ, আজ আসতে পারবেন না। স্কুল অফিসের কারও হাতে এখন মাত্র ৪৫ মিনিট। এর মধ্যেই বের করতে হবে ২য়, ৩য় আর ৫ম পিরিয়ডে কে ফাঁকা আছেন, তিনি আসলেই ওই ক্লাস আর ভার্সনে পড়াতে পারেন কি না, তারপর ঘণ্টা পড়ার আগেই তাঁকে ফোন করে জানাতে হবে। একটু এদিক-ওদিক হলেই চল্লিশজনের একটা ক্লাস শিক্ষক ছাড়া বসে থাকবে।

এমন সকাল বাংলাদেশের যেকোনো স্কুল অফিসের চেনা। সৈয়দপুরের ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে এই ঝামেলা এখন সামলায় সফটওয়্যার। আমাদের বানানো Autoroutine সেখানে প্রতিদিন চলছে, ১৬০ জনেরও বেশি শিক্ষকের জন্য একটাই রুটিন।

Autoroutine কী?

Autoroutine একটা স্কুলের সারা বছরের ক্লাস রুটিন বানিয়ে দেয়, শিক্ষকদের ছুটির ব্যাপারটা সামলায়, আর কেউ অনুপস্থিত হলে সঙ্গে সঙ্গে তাঁর জায়গায় বদলি (প্রক্সি) শিক্ষক ঠিক করে দেয়। অ্যাডমিনরা কাজ করেন ওয়েবের অফিস প্যানেল থেকে, শিক্ষকেরা নিজের ফোন থেকে।

স্কুলের রুটিন বানানো এত ঝামেলার কেন?

কারণ বাস্তবে একটা স্কুলের হিসাব অনেক প্যাঁচানো। CPSCS-এ নার্সারি থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পড়ানো হয়, বাংলা আর ইংরেজি দুই ভার্সনেই। তাই রুটিনে এই সবকিছু মেলাতে হয়:

  • কোন বিষয় কয়টা পিরিয়ড পাবে, সেই কোটা একেক টার্মে একেক রকম
  • কোনো শিক্ষক কিছু লেভেল আর ভার্সনে পড়াতে পারেন, সবগুলোতে না
  • কিছু পিরিয়ড প্রতি সপ্তাহে, কিছু এক সপ্তাহ পরপর, কিছু মাসে; যেমন লাইব্রেরি ক্লাস শুধু মাসের দ্বিতীয় আর চতুর্থ সপ্তাহে
  • যেসব সেকশন নির্দিষ্ট নিয়মে পালা করে ঘোরে
  • কলেজ শাখার প্র্যাকটিক্যাল ক্লাস
  • একই সময়ে পাশাপাশি চলা ক্লাস, যেখানে শিক্ষক বা রুম ভাগ করে নিতে হয়

চার্ট পেপারে বা এক্সেলে বসে হাতে হাতে এটা মেলাতে কয়েক সপ্তাহ লেগে যায়। আর প্রতিটা ছুটির আবেদন এসে তার খানিকটা আবার এলোমেলো করে দেয়।

Autoroutine কীভাবে বদলি (প্রক্সি) শিক্ষক ঠিক করে?

  1. শিক্ষক নিজের ফোন থেকেই ছুটির আবেদন করেন।
  2. যাঁর অনুমোদন দেওয়ার কথা, কো-অর্ডিনেটর হোন বা ভাইস প্রিন্সিপাল, তিনি একবার ট্যাপ করেই অনুমোদন দেন।
  3. ছুটির কারণে যেসব পিরিয়ড ফাঁকা হলো, তার প্রতিটার জন্য Autoroutine এমন একজন শিক্ষক খুঁজে বের করে, যিনি ওই সময় ফাঁকা এবং ওই ক্লাস নেওয়ার যোগ্য, তারপর তাঁকেই দায়িত্ব দেয়।
  4. দুজন শিক্ষকই SMS আর অ্যাপ নোটিফিকেশন পেয়ে যান, অনেক সময় প্রথম ঘণ্টা পড়ার আগেই।

অফিস এক নজরেই পুরো দিনটা দেখতে পায়: কে ছুটিতে, কে কার ক্লাস নিচ্ছেন, কোন কোন পিরিয়ডের ব্যবস্থা পাকা হয়ে গেছে। কোথাও ডাবল-বুকিং হয়ে গেলে সিস্টেম সেটা চাপা দেয় না, নাম ধরে দেখিয়ে দেয়, তারপর মিটিয়ে ফেলে।

এর বাইরে আর কী কী করে?

  • এক ক্লিকে সারা বছরের রুটিন, একাডেমিক ক্যালেন্ডার ধরে তৈরি; পরে দরকারমতো ড্র্যাগ অ্যান্ড ড্রপ করে ঘষামাজা করা যায়
  • প্রিন্টের জন্য তৈরি রুটিন: প্রতি A4 পাতায় একটি করে ক্লাস, স্কুলের মনোগ্রামসহ; সঙ্গে শিক্ষকভিত্তিক আলাদা শিট
  • শুধু দেখার জন্য একটা পাবলিক লিংক, যাতে অভিভাবক আর শিক্ষার্থীরা রুটিন দেখে নিতে পারেন
  • লেভেল অনুযায়ী অ্যাক্সেস: কো-অর্ডিনেটর দেখেন নিজের লেভেল, ভাইস প্রিন্সিপালরা নিজেদেরটা; কে কখন কী বদলালেন, তার পুরো হিসাব থাকে অডিট লগে
  • বাংলায় SMS, প্রতিটি স্কুলের নিজস্ব টেমপ্লেটসহ; কোন SMS পৌঁছাল তার লগ আর খরচের হিসাবও থাকে
  • শিক্ষকদের জন্য Android অ্যাপ (এরপরেই আসছে): প্রত্যেক শিক্ষকের নিজের দিন, সপ্তাহ আর মাসের রুটিন, ছুটির অবস্থা আর লেসন প্ল্যান

এতে আসলে কী বদলায়?

ছুটিতে থাকা শিক্ষককে আর নিজের প্রক্সি নিজে জোগাড় করতে হয় না। প্রক্সি দিতে যাওয়া শিক্ষককেও ক্লাসের দরজায় পৌঁছে প্রথম শুনতে হয় না যে আজ এই ক্লাসটা তাঁর। অফিসের প্রথম এক ঘণ্টা আর ফোনে ফোনে কাটে না; দিন শুরু হয় এটা জেনে যে প্রতিটা পিরিয়ডের ব্যবস্থা হয়ে আছে। বেঁচে যাওয়া সেই সময়টা ফিরে যায় পড়ানোর কাজে।

একটা স্কুলে চালু করতে কত দিন লাগে?

বেশির ভাগ স্কুল এক সপ্তাহের মধ্যেই চালু হয়ে যায়। ক্লাস, সেকশন, বিষয়, পিরিয়ড আর শিক্ষকদের তথ্য বসিয়ে দিলেই হলো। চাইলে আপনার এখনকার রুটিন শিটটা আমাদের দিন; আমরা ঘর ধরে ধরে সেটা তুলে নেব, তারপর সিস্টেমের বানানো রুটিনের সঙ্গে মিলিয়ে দেখব। Autoroutine আমাদের পূর্ণাঙ্গ স্কুল ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম Schoolz VIP-এর সঙ্গেও মিলেমিশে চলে, যেখানে ফি, হাজিরা আর রেজাল্টের কাজ হয়।

Autoroutine কোথায় দেখতে পাব?

autoroutine.org-এ গিয়ে আপনার নিজের ক্লাস আর শিক্ষকদের তথ্য দিয়ে একটা ডেমো চেয়ে নিন। আমরা সৈয়দপুরের একটি সফটওয়্যার কোম্পানি, কাজ করি রংপুর বিভাগের বিভিন্ন স্কুলের সঙ্গে। চাইলে যেকোনো সময় সরাসরি আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।

সম্পর্কিত পোস্ট

CPSCS Connect: ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, সৈয়দপুরের ৪৭ বছরের ইতিহাস এখন অনলাইনে

CPSCS Connect: ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, সৈয়দপুরের ৪৭ বছরের ইতিহাস এখন অনলাইনে

১৯৭৯ সালে ৫ জন শিক্ষক আর ১৭৬ জন শিক্ষার্থী নিয়ে শুরু, আজ শিক্ষার্থী প্রায় ৪,৪০০। CPSCS আমাদের দিয়ে বানিয়েছে ইতিহাস-ঐতিহ্য আর কমিউনিটির একটা ওয়েবসাইট, যেখানে আছে বছর ধরে ধরে সাজানো টাইমলাইন, ক্যাম্পাসের মানচিত্র আর প্রাক্তনদের বিশ্ব মানচিত্র।

রংপুরের একটি স্কুল যেভাবে Schoolz VIP দিয়ে বেতন, রেজাল্ট আর হাজিরা হাতের মুঠোয় আনল

রংপুরের একটি স্কুল যেভাবে Schoolz VIP দিয়ে বেতন, রেজাল্ট আর হাজিরা হাতের মুঠোয় আনল

বকেয়া বেতন, সপ্তাহের পর সপ্তাহ ঝুলে থাকা রেজাল্ট, eSIF-এর হুলুস্থুল আর দেরিতে খবর পাওয়া অভিভাবক। আমাদের বানানো স্কুল ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম Schoolz VIP দিয়ে রংপুরের একটি স্কুল কীভাবে পাঁচটা সমস্যারই সমাধান করল, পড়ুন।

নীলফামারীর সফটওয়্যার কোম্পানি: ডিজিটাল এমপি অফিসে যেভাবে মানুষের কথা পৌঁছাচ্ছে

নীলফামারীর সফটওয়্যার কোম্পানি: ডিজিটাল এমপি অফিসে যেভাবে মানুষের কথা পৌঁছাচ্ছে

নীলফামারী-২ আর নীলফামারী-৪ আসনের ডিজিটাল এমপি অফিস এখন চলছে আমাদের প্রতিনিধি প্ল্যাটফর্মে। বাজারের ড্রেন থেকে ইপিজেডের শ্রমিকদের ভোগান্তি, এলাকার যেকোনো সমস্যা জানিয়ে মানুষ দেখতে পারছে তারপর কী হলো।

সব পোস্টে ফিরে যান