রংপুরের একটি স্কুল যেভাবে Schoolz VIP দিয়ে বেতন, রেজাল্ট আর হাজিরা হাতের মুঠোয় আনল
TrustByte Team
১১ আগস্ট, ২০২৬

মাস শেষ হলেই রংপুরের প্রত্যেক প্রধান শিক্ষকের সামনে একটা প্রশ্ন ঘুরেফিরে আসে: "এখনো কত টাকা বকেয়া, আর কার কাছে?" বেশির ভাগ স্কুলে চট করে এর উত্তর কেউ দিতে পারে না। উত্তরটা ছড়িয়ে আছে রসিদ বইয়ে, একটা এক্সেল ফাইলে আর হিসাবরক্ষকের মাথায়।
রংপুরের একটি স্কুল ঠিক করল, অনেক হয়েছে, আর না। স্কুলটির অফিসের কাজ এখন চলে Schoolz VIP-এ। বাংলাদেশের স্কুল-কলেজ আসলে যেভাবে চলে, সেটা মাথায় রেখেই আমরা এই স্কুল ও কলেজ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম বানিয়েছি। কী কী বদলাল, সেটাই বলি।
স্কুল ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার কোন কোন সমস্যার সমাধান করে?
Schoolz VIP-এ আসার আগে স্কুলটির সমস্যা ছিল সেই পাঁচটাই, যেগুলোর কথা আমরা প্রায় প্রতিটি প্রধান শিক্ষকের অফিসে শুনি:
- বকেয়া বেতন বেহাত হয়ে যায়। রসিদ বইয়ের ভরসায় চললে হুট করে বলা যায় না, আজকের দিনে কার কত বাকি, কবে থেকে বাকি। কেউ কেউ TC নিয়ে চলে যায়, তাদের বকেয়া আর কখনো আদায় হয় না।
- রেজাল্ট দিতে সপ্তাহের পর সপ্তাহ লেগে যায়। খাতা থেকে রেজিস্টারে, রেজিস্টার থেকে টেবুলেশন শিটে নম্বর হাতে তুলতে হয়, আর প্রতিবার তোলার সময়ই ভুলের সুযোগ থাকে।
- বোর্ডের ডেডলাইন এলেই হুলুস্থুল। eSIF রেজিস্ট্রেশন, ফরম ফিলআপ আর প্রবেশপত্র মানেই রাত জেগে কাজ, আর নামের একটা বানান ভুল একজন শিক্ষার্থীকে বছরের পর বছর ভোগাতে পারে।
- অভিভাবক খবর পান অনেক দেরিতে। সন্তান যে ক্লাসে আসছে না, সেটা অভিভাবক জানতে পারেন কয়েক সপ্তাহ পরে, কোনো এক অভিভাবক সভায় গিয়ে।
- অডিট মানেই আলমারি ঘাঁটা। স্কুল কমিটি, অডিটর, BANBEIS, সবাই আলাদা আলাদা হিসাব চায়, আর প্রতিবারই শুরু হয় দিনের পর দিন খোঁজাখুঁজি।
Schoolz VIP চালুর পর স্কুলে কী বদলাল?
- বেতন: bKash, Nagad কিংবা কাউন্টারে হাতে হাতে, যেভাবেই টাকা আসুক, সঙ্গে সঙ্গে বকেয়ার তালিকা আপডেট হয়ে যায়। প্রধান শিক্ষক যেকোনো দিন দেখে নিতে পারেন কার কাছে কত পাওনা।
- রেজাল্ট: শিক্ষকেরা নম্বর একবারই তোলেন। চতুর্থ বিষয়ের নিয়মসহ GPA প্রতিবার একই নিয়মে হিসাব হয়, আর জমা দেওয়া নম্বর লক হয়ে যায়; পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অনুমোদন না দিলে আর বদলানো যায় না।
- হাজিরা: শিক্ষার্থী অনুপস্থিত থাকলে সেদিন সকালেই অভিভাবকের ফোনে SMS চলে যায়, পরের অভিভাবক সভা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয় না।
- বোর্ডের কাজ: eSIF-এর সময় আসার আগেই শিক্ষার্থীদের তথ্য বোর্ডের ফরম্যাটের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়, আর BANBEIS-এ যে তথ্য পাঠাতে হয়, সেটাও তৈরি হয় অফিসের নিয়মিত রেকর্ড থেকেই।
- যার যার স্ক্রিন, তার তার তথ্য: প্রধান শিক্ষক দেখেন পুরো প্রতিষ্ঠান, শিক্ষক দেখেন আজকের ক্লাসগুলো, আর অভিভাবক দেখেন শুধু নিজের সন্তানের তথ্য।
এসবের উদ্দেশ্য স্কুলকে লোক দেখানো "হাই-টেক" বানানো নয়। আসল কথা হলো, হিসাব শাখাকে আর কাগজের পেছনে ছুটতে হয় না, শিক্ষকদের বারবার GPA কষতে হয় না, আর অভিভাবকেরা সবার শেষে খবর পান না।
স্কুলে সফটওয়্যার চালু করতে কত দিন লাগে?
মোটামুটি ছয় সপ্তাহ। আমরা ক্যাম্পাসে গিয়ে অফিসের লোকজনের সঙ্গে বসে সবকিছু সেট আপ করি। পুরোনো রেজিস্টার আর এক্সেল ফাইলের তথ্যও আমরা বিনা খরচে সিস্টেমে তুলে দিই, তাই কাউকে একজন শিক্ষার্থীর নামও নতুন করে টাইপ করতে হয় না। বাংলা ও ইংলিশ ভার্সন, মর্নিং ও ডে শিফট, স্কুল ও কলেজ শাখা, সব চলে একটাই সিস্টেমে।
উত্তরবঙ্গের সফটওয়্যার কোম্পানি কেন বেছে নেবেন?
কারণ স্কুলটি এমন লোক চেয়েছিল, যাঁরা নিজেরা ক্যাম্পাসে আসবেন, একটা সাপোর্ট টিকিট নম্বর ধরিয়ে দিয়ে দায় সারবেন না। আমাদের অফিস সৈয়দপুরে, রংপুর থেকে অল্প পথ, আর বিভাগজুড়ে নানা স্কুলের জন্য আমরা এ ধরনের টুল বানিয়েছি। এর মধ্যে আছে Autoroutine, যা পুরো বছরের ক্লাস রুটিন বানিয়ে দেয়, আর কোনো শিক্ষক ছুটিতে থাকলে কে প্রক্সি ক্লাস নেবেন, সেটাও নিজে থেকেই ঠিক করে দেয়।
Schoolz VIP কি কলেজ আর বড় স্কুলেও চলে?
চলে। স্কুল ও কলেজ শাখা, দুই ভার্সন, দুই শিফট, এমন প্রতিষ্ঠানের কথা ভেবেই এটা বানানো। বাংলাদেশে এর চেয়ে জটিল কাঠামো খুব একটা নেই, তাই ছোট স্কুলে তো এটা অনায়াসেই চলে।
রংপুরে আমার স্কুলের জন্য ডেমো কীভাবে পাব?
আমরা আপনার ক্যাম্পাসে এসে আপনার স্কুলেরই ক্লাসগুলো দিয়ে সব দেখিয়ে দেব। দেখুন রংপুরে সফটওয়্যার কোম্পানি নিয়ে আমাদের পেজ, ঘুরে আসুন পোর্টফোলিও থেকে, অথবা সরাসরি যোগাযোগ করুন।



