নীলফামারীর সফটওয়্যার কোম্পানি: ডিজিটাল এমপি অফিসে যেভাবে মানুষের কথা পৌঁছাচ্ছে
TrustByte Team
২৮ জুলাই, ২০২৬

পঞ্চপুকুর বাজারের ড্রেনটা নিয়ে ভোগান্তি বহু বছরের। ওই পথ দিয়ে যে-ই যায়, সে-ই জানে। আবার সবাই ধরে নেয়, কেউ না কেউ নিশ্চয়ই এর মধ্যে অভিযোগ করে ফেলেছে। বেশির ভাগ সময় দেখা যায় কেউই করেনি, অন্তত এমন কোথাও করেনি যেখানে অভিযোগটা লিখে রাখা হয়, তার খোঁজখবর রাখা হয়, আর একটা উত্তরও আসে।
নীলফামারীতে আমরা ঠিক এই ফাঁকটা পূরণ করতে চেয়েছি। আমাদের প্ল্যাটফর্ম প্রতিনিধি এখন নীলফামারীর দুটি আসনের ডিজিটাল এমপি অফিস চালাচ্ছে: নীলফামারী-২ আর নীলফামারী-৪। এলাকার মানুষের কাছে এর মানে কী, সেটাই খুলে বলি।
ডিজিটাল এমপি অফিস আসলে কী?
এটা একটা ওয়েবসাইট, যেখানে এলাকার যেকোনো সমস্যার কথা সরাসরি নিজের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির অফিসে জানানো যায়, তারপর সেটার কী হলো তা-ও দেখা যায়। এমপির কার্যালয়ে গিয়ে দেখা করার ব্যবস্থা যেমন ছিল তেমনই থাকছে, সেখানকার লোকজনও থাকছেন। ফারাকটা হলো, অফিস এখন সব অভিযোগ এক জায়গায়, গুছিয়ে পায়। আর যিনি অভিযোগ করলেন, তিনিও বুঝতে পারেন তাঁর কথাটা অন্তত কোথাও গিয়ে পৌঁছেছে।
প্রতিটি আসনের পোর্টালে যা যা আছে:
- সমস্যা জানান: সমস্যাটা কোন বিষয়ের, যেমন পানি ও স্যানিটেশন, রাস্তাঘাট, স্বাস্থ্য বা শিক্ষা, সেটা বেছে নিন; জায়গার নাম দিন, তারপর নিজের ভাষায় খুলে বলুন
- অগ্রগতি দেখুন: প্রতিটি অভিযোগ এখন কোন পর্যায়ে আছে, জমা পড়া থেকে সমাধান হওয়া পর্যন্ত, সেটা যে কেউ দেখতে পারেন
- প্রকল্প: আসনে এখন কোন কোন উন্নয়নকাজ চলছে
- স্বচ্ছতা কেন্দ্র: অফিসের কাজকর্ম নিয়ে সবার জন্য খোলা তথ্য
- খবর, ঘোষণা ও কর্মসূচি: এমপি কবে, কোথায় মানুষের সঙ্গে দেখা করছেন
- জরুরি নম্বর: বিপদের সময় যে স্থানীয় নম্বরগুলো সত্যিই দরকার হয়, সব এক জায়গায়
মানুষ কী ধরনের সমস্যার কথা জানাচ্ছে?
একেবারে রোজকার সমস্যা। এক দোকানদার চাইছেন বাজারের ড্রেনটা নদীর সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হোক, যাতে বাজারে আর পানি না জমে। উত্তরা ইপিজেডে দালালদের দৌরাত্ম্যে শ্রমিকদের যে ভোগান্তি, সেটা নিয়ে লিখেছেন এক কারখানা শ্রমিক। এ ধরনের সমস্যা আগে চায়ের দোকানের আলাপেই আটকে থাকত, কারণ খাতায়-কলমে তোলার সহজ কোনো উপায় ছিল না।
একটা সমস্যা যখন জায়গা আর বিষয়সহ লিখিত থাকে, তখন সেটা গোনা যায়, একই ধরনের অভিযোগ একসঙ্গে করা যায়, নির্দিষ্ট কারও দায়িত্বে দেওয়া যায়। একই রাস্তা নিয়ে আলাদা আলাদা দশটা অভিযোগ তখন মিলে একটা স্পষ্ট অগ্রাধিকার হয়ে দাঁড়ায়। আর তখন আলোচনার সুরটাই বদলে যায়।
নীলফামারীতে নাগরিক সেবার সফটওয়্যার কেন বানালাম?
কারণ আমরা এখানকারই মানুষ। TrustByte-এর অফিস নীলফামারী জেলার সৈয়দপুরে। এখানকার উপজেলা, হাটবাজার, মানুষ কীভাবে নিজের সমস্যার কথা বলে, সবই আমাদের চেনা। পোর্টালগুলোর মূল ভাষা বাংলা, আর সাধারণ একটা ফোনে মোবাইল ইন্টারনেটেই ঠিকঠাক চলে, কারণ নীলফামারীর বেশির ভাগ মানুষ এভাবেই এগুলো ব্যবহার করবেন।
এখানে থেকে কাজ করার আরেকটা সুবিধা হলো, আমরা অফিসের লোকজনের পাশে বসে দেখতে পারি আগে অভিযোগ কীভাবে আসত (কাগজে, ফোনে, নাকি সরাসরি এসে), আর তাঁদের রোজকার কাজের ধরন বুঝে সিস্টেমটা সাজাতে পারি। আমাদের বানানো ছাঁচে তাঁদের জোর করে ফেলতে হয় না।
এই প্ল্যাটফর্ম কি কোনো রাজনৈতিক দলের?
না। প্রতিনিধি প্ল্যাটফর্মটা নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির অফিসের জন্য বানানো একটা প্রযুক্তি, সেই পদে যে-ই থাকুন না কেন। প্রতিটি আসনে লক্ষ্য একটাই: মানুষ যেন নিজের সমস্যার কথা তুলতে পারে, আর অফিস যেন দেখাতে পারে সেগুলো নিয়ে কী করা হচ্ছে।
নীলফামারীর অন্য অফিস বা সংগঠন কি এটা ব্যবহার করতে পারবে?
পারবে। অভিযোগ গুছিয়ে নেওয়া, সবার সামনে অগ্রগতি দেখানো আর স্বচ্ছভাবে আপডেট জানানোর এই ধারণা উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, এনজিও আর সামাজিক সংগঠনের বেলায়ও খাটে। জেলাজুড়ে আমরা স্কুল, সামাজিক সংগঠন আর ব্যবসার জন্যও সফটওয়্যার বানিয়েছি। পড়ে দেখুন সৈয়দপুরে আমাদের কাজ, অথবা ঘুরে আসুন আমাদের পোর্টফোলিও থেকে।
নীলফামারীতে সফটওয়্যার কোম্পানির সঙ্গে কীভাবে কাজ শুরু করব?
আমাদের সঙ্গে কথা বলুন। জেলার যেকোনো প্রান্ত থেকে আমরা খুব বেশি দূরে নই, সরাসরি এসে দেখা করব, আর প্রথম পরামর্শের জন্য কোনো টাকা লাগে না। যোগাযোগ করুন, কোন সমস্যার সমাধান চান খুলে বলুন।



