মাঝরাতে রক্তের খোঁজ: সৈয়দপুরের স্বেচ্ছাসেবকদের জন্য আমাদের বানানো প্ল্যাটফর্ম আর অ্যাপ
TrustByte Team
২৫ আগস্ট, ২০২৬

সৈয়দপুরে মাঝরাত। হাসপাতালে ভর্তি এক রোগীর জন্য পরিবারের দরকার বি-নেগেটিভ রক্ত। বছরের পর বছর এর সমাধান ছিল একের পর এক ফোন, একটা ফেসবুক পোস্ট আর ফরোয়ার্ড করা মেসেজ, যেটা সময়মতো ঠিক মানুষের কাছে পৌঁছাবে কি না, কেউ জানে না।
সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশন অব সৈয়দপুর, সংক্ষেপে SWOS (সোস) নয় বছর ধরে ঠিক এই কাজগুলোই করে আসছে: রক্তদান, ত্রাণ, বৃত্তি, বৃক্ষরোপণ আর মাদকবিরোধী প্রচারণা। এর পুরোটাই চলে স্বেচ্ছাসেবকদের সময় আর সদিচ্ছার জোরে। সেই সদিচ্ছা যেন আরও তাড়াতাড়ি মানুষের কাছে পৌঁছায়, সে জন্য আমরা SWOS-এর জন্য একটা কমিউনিটি প্ল্যাটফর্ম আর মোবাইল অ্যাপ বানিয়েছি।
SWOS আসলে কারা?
SWOS পুরোপুরি অরাজনৈতিক একটি মানবিক ও সামাজিক সংগঠন। এর সদস্যরা সৈয়দপুরের তরুণ, শিক্ষার্থী, শিক্ষক, প্রকৌশলী, ডাক্তার, ব্যবসায়ী আর নানা পেশার মানুষ; স্বেচ্ছাসেবক আছেন ১২০ জনেরও বেশি। সংগঠনটির ঘোষিত স্বপ্ন একটা "ইনক্লুসিভ আলোকিত সৈয়দপুর": মানবিক, আত্মমর্যাদাশীল, বাসযোগ্য এক নগরী।
তাদের কাজ ছয়টি ক্ষেত্রে: মানবিক সহায়তা, সামাজিক সচেতনতা, সবুজায়ন ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান, নেতৃত্ব ও দক্ষতা উন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের কল্যাণ, আর শিশু ও প্রবীণদের পাশে দাঁড়ানো।
SWOS প্ল্যাটফর্মে কী কী করা যায়?
- ব্লাড ব্যাংক: রক্তদাতাদের নাম নিবন্ধিত থাকে, তাই বিপদে পড়া পরিবারকে পোস্ট শেয়ার হওয়ার আশায় বসে থাকতে হয় না, গ্রুপ মিলিয়ে নিজেরাই রক্তদাতা খুঁজে নিতে পারে
- সাহায্যের আবেদন: পড়াশোনা, চিকিৎসার খরচ বা জরুরি প্রয়োজনে যে কেউ সাহায্যের জন্য আবেদন করতে পারেন, আর আবেদনটা পৌঁছে যায় তাঁদের কাছে, যাঁরা ব্যবস্থা নিতে পারেন
- স্বেচ্ছাসেবক নিবন্ধন: যাঁরা সময় দিতে চান, তাঁদের যুক্ত হওয়ার একটা পরিষ্কার পথ আছে, আর সংগঠনও জানে কখন কাকে পাওয়া যাবে
- অনুদান: টাকার অঙ্কটা বেছে নিলেই bKash-এ পাঠানোর ধাপগুলো সেখানেই দেখানো হয়, টাকা কোথায় পাঠাতে হবে তা নিয়ে কোনো খটকা থাকে না
- কর্মসূচি ও প্রচারণা: সামনে কী অনুষ্ঠান আছে, কোন প্রচারণা চলছে, কবে মিটিং, সব এক জায়গায়
- কাজের খতিয়ান: নয় বছরে শেষ করা ৩৩টি কর্মসূচি আর ৪৯৯টি ছবি, যাতে দাতা আর সাধারণ মানুষ সংগঠনের কাজ নিজের চোখে দেখতে পারেন
মোবাইল অ্যাপের কল্যাণে এসব এখন সদস্য আর স্বেচ্ছাসেবকদের হাতের মুঠোয়। নোটিশ, কর্মসূচি, আবেদন, সবই থাকে সেখানে, যেখানে মানুষ আসলেই চোখ রাখে: নিজের ফোনে।
সফটওয়্যার একটা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের কী কাজে লাগে?
স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সাধারণত আন্তরিকতার ঘাটতিতে আটকে যায় না। আটকে যায় সমন্বয়ে: শুক্রবার কে ফাঁকা আছে, কাকে আগেই বলা হয়েছে, কোন আবেদন এখনো ঝুলে আছে, আর অনুদানের টাকা কোথায় গেল। সফটওয়্যার স্বেচ্ছাসেবকদের জায়গা নেয় না। যে সাহায্য চাইছে আর যে সাহায্য করতে চায়, তাদের মাঝখানের ঝামেলাগুলো সরিয়ে দেয়।
এতে আস্থাও তৈরি হয়। প্রতিটি কর্মসূচির ছবি আর তারিখসহ সবার জন্য খোলা খতিয়ান দেখে দাতারা বুঝতে পারেন, তাঁদের টাকা গেছে গাছ লাগাতে, কর্মশালা আয়োজনে আর নানা পরিবারের পাশে দাঁড়াতে।
সৈয়দপুরের সংগঠন কেন সৈয়দপুরের সফটওয়্যার কোম্পানিকেই বেছে নিল?
কারণ যাঁরা বানাচ্ছেন, তাঁরা শহরটা চেনেন। ফোনটা কোন হাসপাতাল থেকে আসছে, "স্টেশনের কাছে" বলতে ঠিক কোন জায়গা বোঝায়, সেটা আমরা জানি। কিছু বদলাতে হলে সংগঠকদের সঙ্গে এক ঘরে বসেই কথা বলতে পারি। সৈয়দপুরে আমরা আর কী কী বানিয়েছি, পড়ে দেখুন।
এনজিও বা সামাজিক সংগঠন কি এমন সফটওয়্যার বানিয়ে নিতে পারবে?
পারবে। ব্লাড ব্যাংক, সাহায্যের আবেদন, স্বেচ্ছাসেবক ব্যবস্থাপনা, অনুদানের হিসাব রাখা আর কাজের খবর সবার সামনে তুলে ধরা, এগুলো যেকোনো এনজিও, ক্লাব, অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন বা সামাজিক সংগঠনের কাজে লাগে। আমাদের পোর্টফোলিও দেখুন, সৈয়দপুরের সফটওয়্যার কোম্পানি হিসেবে আমাদের সম্পর্কে জানুন, অথবা আপনার সংগঠনের কী দরকার, আমাদের জানান।



