Skip to main contentSkip to navigation
Case Studies

সৈয়দপুরের সফটওয়্যার কোম্পানি: আমাদের সফটওয়্যার যেভাবে বদলে দিচ্ছে স্কুল আর কমিউনিটির রোজকার জীবন

T

TrustByte Team

২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

6 মিনিট পড়া6 ভিউ
সৈয়দপুরের সফটওয়্যার কোম্পানি: আমাদের সফটওয়্যার যেভাবে বদলে দিচ্ছে স্কুল আর কমিউনিটির রোজকার জীবন

সফটওয়্যার কোম্পানির কথা উঠলে উত্তরবঙ্গের বাইরের প্রায় সবার মাথায় প্রথমে আসে ঢাকা। আমরা অবশ্য কাজ করছি সৈয়দপুরে বসে, এখানকার মানুষের জন্যই। আমাদের ক্লায়েন্ট আশপাশের স্কুলগুলো, ছুটির দিনে রক্তদান কর্মসূচি চালানো স্বেচ্ছাসেবকেরা, আর অফিসের সেই মানুষগুলো, যাঁদের এখনো মনে আছে চার্ট পেপারে রুটিন বানানোর দিনগুলোর কথা।

এই লেখা আমাদের সেবার তালিকা না। এখানে আছে সৈয়দপুরে আমাদের বানানো চারটি কাজের কথা: কারা সেগুলো ব্যবহার করছেন, আর তাঁদের রোজকার কাজে কী বদলেছে।

সৈয়দপুরে কি আসলেই কোনো সফটওয়্যার কোম্পানি আছে?

আছে। TrustByte Ltd-এর অফিস নীলফামারীর সৈয়দপুরে। আমরা ওয়েবসাইট, স্কুল ও ব্যবসার সফটওয়্যার আর মোবাইল অ্যাপ ডিজাইন করি, বানাই, আর চালু হওয়ার পরেও সাপোর্ট দিই। এখানে আমাদের বেশির ভাগ কাজ স্কুল, কলেজ আর সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে। নিচে যা যা লিখেছি, সবই এখন চালু আছে, ব্যবহারও হচ্ছে।

Autoroutine: ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের যে রুটিন নিজে নিজেই চলে

সৈয়দপুরের ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ (CPSCS) বড় প্রতিষ্ঠান। নার্সারি থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পড়ানো হয়, বাংলা আর ইংরেজি দুই ভার্সন আছে, কলেজ শাখায় আছে প্র্যাকটিক্যাল ক্লাস। তাই এখানকার রুটিন বানানো সবসময়ই বিরাট ঝক্কির কাজ ছিল: সপ্তাহ পরপর হওয়া পিরিয়ড, নির্দিষ্ট নিয়মে পালা করে ঘোরা সেকশন, আর ১৬০ জনেরও বেশি শিক্ষক, যাঁদের প্রত্যেককে ঠিক সময়ে ঠিক রুমে থাকতে হবে।

এর মধ্যে ধরুন সকাল ৭টায় একজন শিক্ষক ফোন করে জানালেন, তিনি অসুস্থ। অফিসের কাউকে তখন বের করতে হয় ২য়, ৩য় আর ৫ম পিরিয়ডে কে ফাঁকা, তিনি আসলেই ওই ক্লাস নিতে পারেন কি না, তারপর ঘণ্টা পড়ার আগেই ফোন করে জানাতে হয়। এমন সকাল বাংলাদেশের যেকোনো স্কুল অফিসের চেনা।

Autoroutine আমরা ঠিক এই কাজের জন্যই বানিয়েছি, আর CPSCS-এ এটা প্রতিদিন চলছে:

  • এক বসায় সারা বছরের রুটিন। বিষয়ের কোটা, কোন শিক্ষক কোন ক্লাসের যোগ্য, সাপ্তাহিক আর সপ্তাহ পরপর হওয়া পিরিয়ড, পাশাপাশি চলা ক্লাস, সব মিলিয়ে কোনো ক্ল্যাশ ছাড়াই রুটিন তৈরি হয়; পরে ড্র্যাগ অ্যান্ড ড্রপ করে ঘষামাজা করা যায়।
  • ফোনে ছুটি, এক ট্যাপে প্রক্সি। শিক্ষক ফোন থেকে ছুটির আবেদন করেন, যাঁর অনুমোদন দেওয়ার কথা তিনি একবার ট্যাপ করেন। ব্যস, ফাঁকা হওয়া প্রতিটা পিরিয়ডে এমন একজন শিক্ষককে দেওয়া হয়, যিনি তখন ফাঁকা এবং ওই ক্লাস নেওয়ার যোগ্য। দুজনেই SMS আর অ্যাপ নোটিফিকেশন পান।
  • নোটিশ বোর্ডে টাঙানোর জন্য তৈরি। প্রতি A4 পাতায় একটি করে ক্লাসের রুটিন প্রিন্ট হয়, স্কুলের মনোগ্রামসহ। শিক্ষকভিত্তিক শিটও আছে, আর অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের জন্য আছে শুধু দেখার একটা লিংক।
  • লেভেল অনুযায়ী অ্যাক্সেস। কো-অর্ডিনেটর দেখেন নিজের লেভেল, ভাইস প্রিন্সিপালরা নিজেদেরটা। কে কী বদলালেন, অডিট লগে তার হিসাব থাকে।

বদলটা সহজ। ছুটিতে থাকা শিক্ষককে আর নিজের প্রক্সি নিজে জোগাড় করতে হয় না, আর প্রক্সি দিতে যাওয়া শিক্ষককেও ক্লাসের দরজায় গিয়ে চমকে যেতে হয় না। অফিস দিন শুরু করে এটা জেনে যে প্রতিটা পিরিয়ডের ব্যবস্থা হয়ে আছে। এরপর আসছে শিক্ষকদের জন্য Android অ্যাপ; তখন প্রত্যেক শিক্ষকের দিন, সপ্তাহ আর মাসের রুটিন থাকবে নিজের পকেটে। (Autoroutine কীভাবে প্রক্সি শিক্ষক ঠিক করে, তা নিয়ে আলাদা করে বিস্তারিত লিখেছি।)

CPSCS Connect: একটি স্কুলের ৪৭ বছরের গল্প, এখন অনলাইনে

CPSCS আমাদের আরেকটা কাজ দিয়েছিল: প্রতিষ্ঠানের ইতিহাস আর প্রাক্তন-বর্তমানদের নিয়ে একটা ওয়েবসাইট, নাম CPSCS Connect। স্কুলটির যাত্রা শুরু ১৯৭৯ সালের ৪ এপ্রিল, ৫ জন শিক্ষক আর ১৭৬ জন শিক্ষার্থী নিয়ে। আজ সেখানে প্রায় ৪,৪০০ শিক্ষার্থী আর ১৪৬ জন শিক্ষক। এই ইতিহাস এত দিন ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল ফাইলে, ছবিতে আর মানুষের স্মৃতিতে।

সাইটটা সব এক জায়গায় এনেছে:

  • Living Heritage Timeline: ১৯৭৯ থেকে ২০২৬ পর্যন্ত, প্রতিটি মাইলফলক লিখে রাখা
  • ইন্টারঅ্যাক্টিভ ক্যাম্পাস মাস্টারপ্ল্যান: কোনো ভবন, ল্যাব বা মাঠে ক্লিক করলেই দেখা যায় সেটা কী
  • Wall of Achievements: বোর্ড পরীক্ষার ফল থেকে শুরু করে রোবোটিকস আর অলিম্পিয়াডের পদক পর্যন্ত
  • প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের একটা বিশ্ব মানচিত্র আর একটা Officers' Roll, যাতে দুনিয়ার যেকোনো প্রান্ত থেকে প্রাক্তনরা নিজের নাম যোগ করতে আর একে অন্যকে খুঁজে নিতে পারেন

সৈয়দপুর থেকে দূরে থাকা একজন প্রাক্তন শিক্ষার্থী এখান থেকেই নিজের ব্যাচের মানুষদের আবার খুঁজে পান। আর এখনকার শিক্ষার্থীর কাছে এটা প্রমাণ, এই ক্যাম্পাস থেকে মানুষ অনেক দূর গেছে। CPSCS Connect-এর পুরো গল্পটা পড়ুন।

Schoolz VIP: সৈয়দপুরের আরেকটি স্কুলে ফি, হাজিরা আর রেজাল্ট

সৈয়দপুরের আরেকটি স্কুলের অফিস চলে আমাদের স্কুল ও কলেজ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম Schoolz VIP দিয়ে। ওদের সমস্যাগুলো যেকোনো প্রিন্সিপালের কাছেই চেনা লাগবে:

  • কোনো একটা দিনে কার কার ফি বাকি, কবে থেকে বাকি, কেউ ঠিকঠাক বলতে পারত না
  • খাতা থেকে নম্বর হাতে তুলতে হতো রেজিস্টারে, সেখান থেকে আবার টেবুলেশন শিটে
  • eSIF আর বোর্ডের কাজের সময় এলেই প্রতিবার রাত জেগে কাজ
  • সন্তান স্কুলে আসেনি, এই খবর অভিভাবক পেতেন কয়েক সপ্তাহ পরে, অভিভাবক সভায় গিয়ে

এখন প্রতিটি পেমেন্ট, সেটা বিকাশ, নগদ বা কাউন্টারে ক্যাশ যেভাবেই হোক, সঙ্গে সঙ্গে বকেয়ার তালিকা আপডেট করে দেয়। শিক্ষকেরা নম্বর একবারই এন্ট্রি দেন, চতুর্থ বিষয়ের নিয়মসহ GPA হিসাব হয়ে যায় অটোমেটিক। অভিভাবক পরের অভিভাবক সভায় নয়, সেদিন সকালেই অনুপস্থিতির SMS পেয়ে যান। আর eSIF-এর সময় আসার আগেই শিক্ষার্থীদের তথ্য বোর্ডের ফরম্যাটের সঙ্গে মিলিয়ে যাচাই করা থাকে।

একটা স্কুলের আসল কাজ তো পড়ানো। অফিসকে আর বারবার নাম টাইপ করে ঘণ্টার পর ঘণ্টা নষ্ট করতে হয় না, সেই সময়টা ফিরে যায় পড়ানোর কাজেই।

SWOS: সৈয়দপুরের স্বেচ্ছাসেবকদের জন্য কমিউনিটি প্ল্যাটফর্ম ও মোবাইল অ্যাপ

Social Welfare Organization of Saidpur (SWOS, সোস) একটি অরাজনৈতিক সংগঠন, যেখানে আছেন শিক্ষার্থী, শিক্ষক, ইঞ্জিনিয়ার, ডাক্তার আর ব্যবসায়ীরা। গত নয় বছর ধরে তাঁরা গাছ লাগানো, মাদকবিরোধী প্রচারণা, অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের বৃত্তি, ত্রাণ আর রক্তদানের কাজ করে আসছেন, পুরোটাই স্বেচ্ছাশ্রমে।

স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন চলে মানুষের আন্তরিকতায়। আবার চলে ফোনকল, ফেসবুক পোস্ট আর কারও একটা খাতার ভরসায়, আর এভাবে চললে অনেক কিছুই ফসকে যায়। তাই SWOS-এর সদস্য আর স্বেচ্ছাসেবকদের জন্য আমরা মোবাইল অ্যাপসহ একটা কমিউনিটি প্ল্যাটফর্ম বানিয়েছি:

  • স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে নাম লেখানোর ব্যবস্থা, যাতে যাঁরা সময় দিতে চান, তাঁরা সহজেই যুক্ত হতে পারেন
  • একটা ব্লাড ব্যাংক, যাতে বিপদের সময় ডোনার খুঁজতে কোনো পরিবারকে ফরোয়ার্ড করা মেসেজের ভরসায় বসে থাকতে না হয়
  • শিক্ষা, চিকিৎসা বা জরুরি প্রয়োজনে সাহায্যের আবেদন, যা সরাসরি পৌঁছে যায় তাঁদের কাছে, যাঁরা ব্যবস্থা নিতে পারেন
  • ডোনেশন, বিকাশে কীভাবে টাকা পাঠাবেন সেই নির্দেশনা সঙ্গে সঙ্গেই দেখা যায়
  • নয় বছরের ৩৩টি কর্মসূচি আর ৪৯৯টি ছবির একটা আর্কাইভ, যাতে সংগঠনের কাজ সবার চোখের সামনে থাকে, জবাবদিহিও থাকে

সৈয়দপুরে কারও যখন মাঝরাতে রক্ত লাগে, তখন একজন ডোনার খুঁজে পেতে কত সময় যাচ্ছে, সেটাই আসল কথা। এ ধরনের সফটওয়্যার বানাতেই আমাদের সবচেয়ে ভালো লাগে। SWOS প্ল্যাটফর্ম নিয়ে আরও পড়ুন।

লোকাল সফটওয়্যার কোম্পানি হলে লাভ কী?

লাভ হলো, দরকার হলে আমরা সশরীরে হাজির হতে পারি। রুটিন এন্ট্রির সময় আমরা ভাইস প্রিন্সিপালের রুমেই বসে থাকি। অ্যাকাউন্টসের দায়িত্বে থাকা কর্মচারী রসিদ বই নিয়ে আসলে কী করেন, নিজের চোখে দেখি। SMS গেটওয়ে রেট বদলালে গিয়ে সামনাসামনি সমস্যাটা মিটিয়ে আসি। ঢাকার অফিসে বসে "সব স্কুলের জন্য" বানানো সফটওয়্যার প্রায়ই ধরতে পারে না সৈয়দপুরের একটা স্কুল আসলে কীভাবে চলে: দুই ভার্সন, দুই শিফট, একটা কলেজ শাখা আর ক্যান্টনমেন্টের নিজস্ব ক্যালেন্ডার।

কর্মসংস্থানের দিক থেকেও এর গুরুত্ব আছে। এখানে আমরা যত প্রজেক্ট করি, তার সব কাজ করেন এখানকারই মানুষ।

উত্তরবঙ্গের আর কোথায় কী বানাচ্ছি?

জেলা আর বিভাগজুড়ে আমাদের কাজেও একই ধারা। নীলফামারীতে আমরা ডিজিটাল এমপি অফিস বানিয়েছি, যেখানে নাগরিকেরা সমস্যার কথা জানাতে আর কাজ কত দূর এগোল তা দেখতে পারেন। রংপুরে একটি স্কুলের ফি, হাজিরা আর রেজাল্ট চলে Schoolz VIP-এ। আরও কাজ দেখতে চাইলে আমাদের পোর্টফোলিও ঘুরে আসুন।

সৈয়দপুরে TrustByte-এর সঙ্গে কীভাবে কাজ শুরু করব?

কোন কাজে আটকে যাচ্ছেন, আমাদের বলুন। হতে পারে রুটিন, ফি-এর রেজিস্টার, এমন একটা ওয়েবসাইট যেটা কেউ আপডেট করে না, কিংবা কোনো অ্যাপের আইডিয়া। আমরা আপনার স্কুল, অফিস বা দোকানে গিয়েই দেখা করব, আর প্রথম পরামর্শ একদম ফ্রি। বিস্তারিত দেখুন আমাদের সৈয়দপুরের সফটওয়্যার কোম্পানি পেজে, অথবা সরাসরি যোগাযোগ করুন।

সম্পর্কিত পোস্ট

CPSCS Connect: ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, সৈয়দপুরের ৪৭ বছরের ইতিহাস এখন অনলাইনে

CPSCS Connect: ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, সৈয়দপুরের ৪৭ বছরের ইতিহাস এখন অনলাইনে

১৯৭৯ সালে ৫ জন শিক্ষক আর ১৭৬ জন শিক্ষার্থী নিয়ে শুরু, আজ শিক্ষার্থী প্রায় ৪,৪০০। CPSCS আমাদের দিয়ে বানিয়েছে ইতিহাস-ঐতিহ্য আর কমিউনিটির একটা ওয়েবসাইট, যেখানে আছে বছর ধরে ধরে সাজানো টাইমলাইন, ক্যাম্পাসের মানচিত্র আর প্রাক্তনদের বিশ্ব মানচিত্র।

Autoroutine: সৈয়দপুরের ১৬০ শিক্ষকের একটি স্কুলে রুটিন আর প্রক্সি ক্লাস যেভাবে নিজে থেকেই চলে

Autoroutine: সৈয়দপুরের ১৬০ শিক্ষকের একটি স্কুলে রুটিন আর প্রক্সি ক্লাস যেভাবে নিজে থেকেই চলে

সকাল ৭টায় একজন শিক্ষক ফোন করে জানালেন, তিনি অসুস্থ। সৈয়দপুরের ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে প্রথম ঘণ্টা পড়ার আগেই ফাঁকা ও যোগ্য একজন প্রক্সি শিক্ষক ঠিক হয়ে যান, খবরও পৌঁছে যায়, পুরোটাই অটোমেটিক।

রংপুরের একটি স্কুল যেভাবে Schoolz VIP দিয়ে বেতন, রেজাল্ট আর হাজিরা হাতের মুঠোয় আনল

রংপুরের একটি স্কুল যেভাবে Schoolz VIP দিয়ে বেতন, রেজাল্ট আর হাজিরা হাতের মুঠোয় আনল

বকেয়া বেতন, সপ্তাহের পর সপ্তাহ ঝুলে থাকা রেজাল্ট, eSIF-এর হুলুস্থুল আর দেরিতে খবর পাওয়া অভিভাবক। আমাদের বানানো স্কুল ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম Schoolz VIP দিয়ে রংপুরের একটি স্কুল কীভাবে পাঁচটা সমস্যারই সমাধান করল, পড়ুন।

সব পোস্টে ফিরে যান